88
Mecca
The Surah takes its name from the alphabetic letter Suad with which it begins.
As will be explained below, according to some traditions this Surah was sent down in the period when the Holy Prophet had started calling the people openly to Islam in Makkah, and this had caused great alarm among the chiefs of the Quraish. If this be true, its period of revelation would be about the 4th year of the Prophethood. According to some other traditions, it was sent down after Hadrat Umar's embracing Islam, and this happened, as is well known, after the migration to Habash. Another chain of the traditions shows that the event which occasioned the revelation of this Surah took place during the last illness of Abu Talib. If this be correct, the period of its revelation would be the 10th or 11th year of the Prophethood
38:45
وَٱذْكُرْ عِبَـٰدَنَآ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ أُو۟لِى ٱلْأَيْدِى وَٱلْأَبْصَـٰرِ ٤٥
And remember Our servants, Abraham, Isaac and Jacob - those of strength and [religious] vision.
— Saheeh International
স্মরণ কর, আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের কথা, তারা ছিল শক্তিশালী ও সূক্ষ্মদর্শী।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:46
إِنَّآ أَخْلَصْنَـٰهُم بِخَالِصَةٍۢ ذِكْرَى ٱلدَّارِ ٤٦
Indeed, We chose them for an exclusive quality: remembrance of the home [of the Hereafter].
— Saheeh International
আমি তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, ওটা ছিল পরকালের স্মরণ।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:47
وَإِنَّهُمْ عِندَنَا لَمِنَ ٱلْمُصْطَفَيْنَ ٱلْأَخْيَارِ ٤٧
And indeed they are, to Us, among the chosen and outstanding.
— Saheeh International
অবশ্যই তারা ছিল আমার মনোনীত ও উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:48
وَٱذْكُرْ إِسْمَـٰعِيلَ وَٱلْيَسَعَ وَذَا ٱلْكِفْلِ ۖ وَكُلٌّۭ مِّنَ ٱلْأَخْيَارِ ٤٨
And remember Ishmael, Elisha and Dhul-Kifl, and all are among the outstanding.
— Saheeh International
স্মরণ কর ইসমাঈল, আল ইয়াসাআ’ ও যুলকিফলের কথা, তারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:49
هَـٰذَا ذِكْرٌۭ ۚ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَـَٔابٍۢ ٤٩
This is a reminder. And indeed, for the righteous is a good place of return -
— Saheeh International
এটা এক স্মরণীয় বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাস –
— Sheikh Mujibur Rahman
38:50
جَنَّـٰتِ عَدْنٍۢ مُّفَتَّحَةًۭ لَّهُمُ ٱلْأَبْوَٰبُ ٥٠
Gardens of perpetual residence, whose doors will be opened to them.
— Saheeh International
চিরস্থায়ী জান্নাত, তাদের জন্য উম্মুক্ত রয়েছে যার দ্বার।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:51
مُتَّكِـِٔينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَـٰكِهَةٍۢ كَثِيرَةٍۢ وَشَرَابٍۢ ٥١
Reclining within them, they will call therein for abundant fruit and drink.
— Saheeh International
সেখানে তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে, সেখানে তারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয়ের জন্য আদেশ দিবে।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:52
۞ وَعِندَهُمْ قَـٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ أَتْرَابٌ ٥٢
And with them will be women limiting [their] glances[1] and of equal age.
— Saheeh International
[1]- To their mates alone.
আর তাদের পাশে থাকবে আনত নয়না সমবয়স্কা তরুণীরা।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:53
هَـٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ ٥٣
This is what you, [the righteous], are promised for the Day of Account.
— Saheeh International
এটাই হিসাব দিনে তোমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:54
إِنَّ هَـٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُۥ مِن نَّفَادٍ ٥٤
Indeed, this is Our provision; for it there is no depletion.
— Saheeh International
এটাই আমার দেয়া রিয্ক যা নিঃশেষ হবেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
Allah tells us about the virtues of His servants the Messengers and His Prophets:
وَاذْكُرْ عِبَادَنَآ إِبْرَهِيمَ وَإِسْحَـقَ وَيَعْقُوبَ أُوْلِى الاٌّيْدِى وَالاٌّبْصَـرِ
(And remember Our servants, Ibrahim, Ishaq, and Ya`qub, Ulil-Aydi wal-Absar.) meaning, righteous deeds, beneficial knowledge, strength in worship and insight. `Ali bin Abi Talhah reported that Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, said:
أُوْلِى الاٌّيْدِى
(Ulil-Aydi) "Of great strength and worship;
وَالاٌّبْصَـرُ
(wal-Absar) means, understanding of the religion." Qatadah and As-Suddi said, "They were given strength in worship and understanding of the religion."
إِنَّآ أَخْلَصْنَهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ
(Verily, We did choose them by granting them the remembrance of the Abode.) Mujahid said, "This means: We made them strive for the Hereafter, and there is nothing else for them besides that." As-Suddi also said, "The remembrance of the Hereafter and striving for it." Malik bin Dinar said, "Allah removed the love of this world from their hearts, and singled them out for land remembrance of the Hereafter." Qatadah said, "They used to remind the people about the Abode of the Hereafter and to strive for it."
وَإِنَّهُمْ عِندَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الاٌّخْيَارِ
(And they are with Us, verily, of the chosen and the best!) means, they are among those who have been elected and chosen, and they are the best and the chosen ones.
وَاذْكُرْ إِسْمَـعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِّنَ الاٌّخْيَارِ
(And remember Isma`il, Al-Yasa`, and Dhul-Kifl, all are among the best.) We have already discussed their characteristics and stories in detail in Surat Al-Anbiya', may peace be upon them, and there is no need to repeat it here.
هَـذَا ذِكْرُ
(This is a Reminder) means, a reminder to those who will be reminded. As-Suddi said, "This means the Holy Qur'an."
Allah tells us that His blessed, believing servants will have a good final return in the Hereafter, which means their ultimate destination. Then He explains it further, as He says:
جَنَّـتِ عَدْنٍ
(`Adn Gardens) meaning, eternal gardens (of Paradise),
مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ الاٌّبْوَابُ
(whose doors will be opened for them.) means, when they come to them (these gardens), their gates will open for them.
مُّتَّكِئِينَ فِيهَا
(Therein they will recline;) It was said that this means that they will sit cross-legged on chairs beneath canopies.
يَدْعُونَ فِيهَا بِفَـكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
(therein they will call for fruits in abundance) means, whatever they ask for, they will find it, and it will be prepared just as they wanted it.
وَشَرَابٌ
(and drinks;) means, whatever kind of drink they want, the servants will bring it to them,
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
(With cups, and jugs, and a glass of flowing wine.) (56: 18).
وَعِندَهُمْ قَـصِرَتُ الطَّرْفِ
(And beside them will be Qasirat-at-Tarf (chaste females)) means, they restrain their glances from anyone except their husbands, and do not turn to anyone else.
أَتْرَابٌ
((and) of equal ages.) means, they will all be of the same age. This is the understanding of Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, Mujahid, Sa`id bin Jubayr, Muhammad bin Ka`b and As-Suddi.
هَـذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ
(This it is what you are promised for the Day of Reckoning!) means, `this that We have mentioned of the features of Paradise is what He has prepared for His pious servants who will reach it after they have been resurrected from their graves and been saved from the Fire.' Then Allah tells us that Paradise will never come to an end or disappear or cease to be. He says:
إِنَّ هَـذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِن نَّفَادٍ
(Verily, this is Our provision which will never finish.) This is like the Ayat:
مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ وَمَا عِندَ اللَّهِ بَاقٍ
(Whatever is with you, will be exhausted, and whatever is with Allah will remain) (16:96).
عَطَآءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ
(a gift without an end.) (11:108)
لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ
(for them is a reward that will never come to an end.) (84:25).
أُكُلُهَا دَآئِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَواْ وَّعُقْبَى الْكَـفِرِينَ النَّارُ
(its provision is eternal and so is its shade; this is the end of those who have Taqwa, and the end (final destination) of the disbelievers is Fire.)(13:35). And there are many similar Ayat.
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূলদের (আঃ) ফযীলতের বর্ণনা দিচ্ছেন এবং তাঁদের সংখ্যা গণনা করছেন যে, তাঁরা হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ) এবং হযরত ইয়াকূব (আঃ)। তিনি বলেন যে, তাঁদের আমল খুবই উত্তম ছিল এবং তারা ছিলেন সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা আল্লাহর ইবাদতে খুব মযবূত ছিলেন এবং মহাশক্তিশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দুরদর্শিতা ও অন্তদৃষ্টি দান করা হয়েছিল। তাদের দ্বীনের বোধশক্তি ছিল, আল্লাহর আনুগত্যে তারাই ছিলেন অটল এবং সত্যকে তাঁরা দর্শনকারী ছিলেন। তাঁদের কাছে দুনিয়ার কোন গুরুত্ব ছিল না।
তারা শুধু আখিরাতের প্রতি খেয়াল রাখতেন। দুনিয়ার প্রতি তাদের কোন ভালবাসা ছিল না এবং সদা-সর্বদা তাঁরা আখিরাতের যিকরে মগ্ন থাকতেন। তাঁরা ঐ সব কাজ করে চলতেন যেগুলো জান্নাতের হকদার বানিয়ে দেয়। জনগণকেও তারা ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করতেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন উত্তম পুরস্কার ও ভাল স্থান প্রদান করবেন। আল্লাহর দ্বীনের এই বুযর্গ ব্যক্তিরা আল্লাহর খাঁটি ও বিশিষ্ট বান্দা। হযরত ইসমাঈল (আঃ), হযরত ইয়াসাআ (আঃ) এবং হযরত যুলকিফলও (আঃ) আল্লাহর মনোনীত ও বিশিষ্ট বান্দা ছিলেন। তাদের অবস্থাবলী সূরায়ে আম্বিয়ায় গত হয়েছে। এজন্যে এখানে বর্ণনা করা হলো না। তাদের ফযীলত বর্ণনায় তাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে যারা উপদেশ লাভ ও গ্রহণ করতে অভ্যস্ত। আর ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন হলো যিকর অর্থাৎ নসীহত বা উপদেশ।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৎ বান্দাদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তাদের জন্যে পরকালে উত্তম পুরস্কার ও সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে এবং রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। জান্নাতের দরগুলো তাদের জন্যে বন্ধ থাকবে না, বরং সব সময় খোলা থাকবে। দরযা খুলবার কষ্টটুকুও তাদেরকে করতে হবে না।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতের মধ্যে আদন নামক একটি প্রাসাদ রয়েছে, যার আশে পাশে মিনার রয়েছে। ওর পাঁচ হাজার দর আছে এবং প্রত্যেক দরযার উপর পাঁচ হাজার চাদর রয়েছে। তাতে শুধু নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহগণ অবস্থান করবেন। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আর এটা তো বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত যে, জান্নাতের আটটি দরযা রয়েছে।মহান আল্লাহ বলেনঃ সেথায় তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে। নিশ্চিন্তভাবে অতি আরামে চার জানু হয়ে তারা বসে থাকবে। আর সেথায় তারা বহুবিধ ফল মূল ও পানীয়ের জন্যে আদেশ দিবে। অর্থাৎ যে ফল অথবা যে সুরা পানাহারের তাদের ইচ্ছা হবে, হুকুমের সাথে সাথে পরিচারকের দল সেগুলো এনে তাদের কাছে হাযির করে দিবে। সেথায় তাদের পার্শ্বে থাকবে আনত নয়না সমবয়স্কা তরুণীগণ। তারা হবে অতি পবিত্র। তারা চক্ষু নীচু করে থাকবে এবং জান্নাতীদের প্রতি তারা চরমভাবে আসক্তা থাকবে।
তাদের চক্ষু কখনো অন্যের দিকে উঠবে না এবং উঠতে পারে না। তারা হবে সমবয়স্কা।মহান আল্লাহ বলেনঃ এটাই হিসাব দিবসের জন্যে তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ এসব গুণ বিশিষ্ট জান্নাতের ওয়াদা আল্লাহ তাআলা তাঁর ঐ বান্দাদের সাথে করেছেন যারা তাকে ভয় করে। তারা কবর হতে উঠে, জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি পেয়ে এবং হিসাব হতে অবকাশ প্রাপ্ত হয়ে এই জান্নাতে গিয়ে পরম সুখে বসবাস করবে।অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, এটাই তার দেয়া রিযক যা কখনো নিঃশেষ হবে না। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা বাকী থাকবে (কখনো নিঃশেষ হবে না)।” (১৬:৯৬)আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।”(৮৪:২৫) আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওর ফলমূল ও পানাহারের জিনিস এবং ওর ছায়া চিরস্থায়ী, পরহেযগারদের পরিণাম ফল এটাই। আর কাফিরদের পরিণাম ফল জাহান্নাম।” (১৩:৩৫) এ বিষয়ের আরো বহু আয়াত রয়েছে।
কঠোরতা ও জোর-জবরদস্তি করে অধিকার আদায়, জালেম ও অত্যাচারীর চরিত্র। কিন্তু আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হকদারের ন্যায় সংগত হক আদায় ও তার সহায়তার নিমিত্তে ন্যায়ের মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন। যেন তারা তাদের হক বুঝে পায় ও তা গ্রহণ করে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ন্যায় ও সত্যের পথে আদেশ ও নিষেধের যে আদর্শ দান করেছেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কোন কঠোরতা, জবরদস্তি ও জুলুম-অত্যাচারের আশঙ্কা করি না। আশঙ্কা নেই সেখানে কোন সীমালঙ্ঘন ও লুটপাটের। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
كنت أمشي مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وعليه برد نجراني غليظ الحاشية، فأدركه أعرابي، فجبذه بردائه جبذة شديدة، فنظرت إلى صفحة عاتق النبي - صلى الله عليه وسلم - وقد أثرت بها حاشية الرداء من شدة جبذته، ثم قال: «يا محمد، مر لي من مال الله الذي عندك فالتفت إليه، فضحك ثم أمر له بعطاء».
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চলছিলাম, তাঁর গায়ে ছিল মোটা ঝালর যুক্ত নাজরানী চাদর। অত:পর এক বেদুইন তাকে ধরে সজোরে টানতে লাগল, আমি তাকিয়ে দেখি তার ঘাড়ে জোরে টানের চোটে চাদরের ঝালরের দাগ লেগে গেছে। তারপর বেদুইন বলে উঠল: হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে যে সম্পদ আছে, তা আমাকে দেয়ার আদেশ দাও। তিনি তার দিকে তাকিয়ে হাসলেন ও তাকে দেয়ার আদেশ দিলেন। [মুসলিম, হাদিস: ২৩২৮ ]
কতই না সুন্দর তার আচরণ এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের চিত্র। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নমনিয়তা এবং উপকারী ও কল্যাণজনক বিষয়কে বুঝান ও অন্যায় অকল্যাণকে প্রতিকার করাই ছিল তাঁর কর্ম।
সাহাবারা যখন দেখল যে, মসজিদে পেশাবকারী ভুল পথে পা বাড়িয়েছে, তারা রাগান্বিত হয়ে অতি তাড়াতাড়ি তাকে বারণ করার চেষ্টা করতে গেল, তাদের এ কাজ করার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু দয়ার সাগর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বাধা দিলেন, কেননা বেদুইন ছিল অজ্ঞ ব্যক্তি, আর তা করলে তার ক্ষতি হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তা ছিল অনুপম উত্তম।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
بال أعرابي في المسجد فقام الناس إليه ليقعوا فيه، فقال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «دعوه وأريقوا على بوله سجلاً من ماء، أو ذنوبًا من ماء، فإنما بعثتم ميسرين، ولم تبعثوا معسرين».
এক বেদুইন মসজিদের ভিতর পেশাব করা আরম্ভ করলে, সাহাবীরা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা তাকে বারণ করো না, ছেড়ে দাও এবং পেশাবের জায়গায় এক বালতি পানি ঢেলে দাও। নিশ্চয়ই তোমরা সহজতা আরোপকারী হিসাবেই প্রেরিত হয়েছ, কঠোর হয়ে প্রেরিত হওনি। [বুখারী, হাদিস: ৬১২৮ ]
দাওয়াতী কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ধৈর্য, তার অনুসারী দাবীদারদের জন্য অপরিহার্য হল সে অনুযায়ী তার আদর্শ মত চলা এবং নিজিকে অধৈর্যের মুখে ঠেলে না দেয়া। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
هل أتى عليك يوم كان أشد من أحد؟ قال: «لقد لقيت من قومك، وكان أشد ما لقيت منهم يوم العقبة، إذ عرضت نفسي على ابن عبد ياليل بن عبد كلال، فلم يجبني إلى ما أردت، فانطلقت وأنا مهموم على وجهي، فلم أستفق إلا وأنا بقرن الثعالب، فرفعت رأسي، فإذا أنا بسحابة قد أظلتني فنظرت فإذا فيها جبريل عليه السلام فناداني فقال: إن الله تعالى قد سمع قول قومك لك، وما ردوا عليك وقد بعثت إليك ملك الجبال لتأمره بما شئت فيهم فناداني ملك الجبال فسلم علي ثم قال: يا محمد إن الله قد سمع قول قومك لك، وأنا ملك الجبال، وقد بعثني ربك إليك لتأمرني بأمرك، فما شئت؟ إن شئت أطبقت عليهم الأخشبين». فقال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «بل أرجو أن يخرج الله من أصلابهم من يعبد الله وحده لا يشرك شيئًا».
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার উপর ওহুদ যুদ্ধের দিনের চেয়ে কঠিন কোন সময় কি অতিবাহিত হয়েছে? তিনি উত্তরে বলেন: আমি তোমার সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যা পেয়েছি। আর তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠিন ছিল, যা আমি তাদের পক্ষ থেকে ‘আকাবার দিনে পেয়েছি। আমি যখন ইসলামের দাওয়াত দেওয়া জন্য নিজকে ইবনে আবদ য়ালীল বিন আবদে কিলালকে উপস্থাপন করেছিলাম, আমি যা চেয়েছিলাম সে ব্যাপারে তারা আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। আমি সেখান থেকে বিষন্ন হৃদয়ে ফিরে এসেছিলাম। আমি কারনুস সায়ালেব [ছায়লুল কাবীর] এ আসার পর আমার পূর্ণ জ্ঞান ফিরেছিল। অত:পর আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, এক খণ্ড মেঘমালা আমাকেছায়া দিচ্ছে। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখি যে, সেখান থেকে জিবরীল [আলাইহিস সালাম] আমাকে ডেকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনার সম্প্রদায়ের কথা শুনেছেন ও তারা আপনার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন তাও অবগত হয়েছেন। অত:পর তিনি পাহাড়ের দায়িত্বে নিযুক্ত ফেরেস্তাকে প্রেরণ করেছেন, আপনি তাদেরকে শায়েস্তা করার জন্য তাকে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর পাহাড়ের দায়িত্বে নিযুক্ত ফেরেস্তা আমাকে সালাম দিয়ে বললেন: হে মুহাম্মাদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনার সম্প্রদায় আপনার সাথে কিভাবে কথা বলেছে তা শুনেছেন। আর আমি পাহাড়ে নিযুক্ত ফেরেস্তা, আমাকে আমার প্রতিপালক আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন, আপনি যেন আমাকে যা ইচ্ছা নির্দেশ দেন। আপনি যদি চান, তবে মক্কা বেষ্টিত দুই বড় পাহাড়কে তাদের উপর সমন্বয় করে দেই। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি চাই, আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঔরসে এমন সন্তান জন্ম দিবেন, যারা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদাত করবে ও তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করবে না। [বুখারী, হাদিস:৩২৩১; মুসলিম, হাদিস: ১৭৯৫ ]
বর্তমানে অনেকেই দাওয়াতী কাজে তাড়াহুড়া করে থাকে এবং অতি দ্রুত এ কাজের ফলাফল পেতে চায়। প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেয়া দাওয়াতী ক্ষেত্রে ও ইখলাসে একটি বড় দোষ। উক্ত দোষ দায়ীদের মাঝে বিস্তার হওয়ার কারণে অনেক দাওয়াতী কাজ নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কোথায় সে ধৈর্য ও কোথায় সে সহনশীলতা। অনেক বছর পর, অনেক কষ্ট সহ্য, অনেক ধৈর্য ধারণ এবং অনেক যুদ্ধ-জিহাদের পরই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চেয়েছিলেন তা প্রতিফলিত হয়েছিল!!
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করতে দেখছি তিনি বলেন,
كأني أنظر إلى رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يحكي نبيًا من الأنبياء صلوات الله وسلامه عليه، ضربه قومه فأدموه وهو يمسح الدم عن وجهه ويقول: «اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون».
সে নবীর সম্প্রদায় তাঁকে মেরে রক্তাক্ত করে দিয়েছে, তিনি মুখমণ্ডল থেকে রক্ত মুছা অবস্থায় বলছে: হে আল্লাহ! তুমি আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করে দাও। কেননা তারা বুঝে না। [বুখারী, হাদিস: ৬৯২৯; মুসলিম, হাদিস: ১৭৯২ ]
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে কোন জানাজা নামাযে উপস্থিত ছিলেন, এমতাবস্থায় যায়েদ বিন সু’নাহ নামক জনৈক ইয়াহুদী তার প্রাপ্ত ঋণ চাওয়ার জন্য এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামার কলার ও চাদর ধরে রাঙ্গা চোখে বলল: ওহে মুহাম্মাদ! তুমি আমার প্রাপ্ত ঋণ পরিশোধ করবে না? এবং সে অনেক শক্ত শক্ত কথা বলল। এ দৃশ্য দেখে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রেগে গেলেন ও যায়েদের দিকে তাকালেন এমতাবস্থায় তাঁর উভয় চুক্ষু যেন ঘুর্ণিয়মান তারকার মত স্বীয় কক্ষপথে ঘুরার মত ঘুরছে। অত:পর বললেন: ওহে আল্লাহর দুশমন! তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সাথে এমন কথা বললে আমি যা শুনছি, আর এমন ব্যবহার করলে যা আমি দেখছি? যিনি তাঁকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তার শপথ করে বলছি, আমি যদি তার তিরস্কারের ভয় না করতাম তবে আমার তলোয়ার দ্বারা এখনই তোমার মাথাকে আলাদা করে দিতাম। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্ত ভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে তাকাচ্ছিলেন, অত:পর বললেন:
«يا عمر، أنا وهو كنا أحوج إلى غير هذا، أن تأمرني بحسن الأداء، وتأمره بحسن التباعة، اذهب به يا عمر فأعطه حقه، وزده عشرين صاعًا من تمر».
ওহে উমার! শুন, আমি ও সে ব্যক্তি তোমার নিকট থেকে এরকম আচরণ আশা করিনি। তোমার নিকট হতে এ আশা করি যে, তুমি আমাকে ঋণ পরিশোধ করার অনুরোধ করবে ও তাকে সুন্দর আচরণ করতে বলবে।
উমার তুমি তাকে নিয়ে গিয়ে তার অধিকার দিয়ে দাও ও অতিরিক্ত বিশ সা’ খেজুর দিয়ে দাও।
যায়েদ [ইয়াহুদী] বলে, উমার যখন আমাকে বিশ সা’ খেজুর বেশী দিল, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে উমার! বেশী দিলে কেন? উমার বললেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার রাগের পরিবর্তে তিনি বেশী বলেছেন। যায়েদ বলে:? হে উমার! তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছো? উমার বলেন: না, তবে তুমি কে? সে বলল: আমি যায়েদ বিন সু’নাহ।
তিনি বলেন: ও! তুমি ইয়াহুদী পাদ্রী? আমি বললাম: হাঁ,। তিনি বলেন: তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এরূপ আচরণ করলে কেন? এরূপ কথা বললে কেন? সে বলল: হে উমার! আমি যখন তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম, তখন তার চেহারার মাঝে নবূয়তের দুটি আলামত ব্যতীত সব বুঝতে পেরে ছিলাম, আর আমি তার নিকট থেকে এ দুটি আলামত সম্পর্কে অবহিত হইনি: আর তা হল: [১] তাঁর সহিষ্ণুতা অজ্ঞতার উপর অগ্রগামী কি না। [২] মুর্খতা বশত তাঁর সাথে কেউ যত বেশী অসদাচরণ করবে তার ধৈর্য আরো বৃদ্ধি পাবে। এ দুটি বিষয় পরীক্ষার জন্যই আমি এ আচরণ করেছি। ওহে উমার! তোমাকে সাক্ষী করে বলছি:আল্লাহ তা‘আলা আমার রব্ব হওয়াতে, ইসলাম আমার দ্বীন হওয়াতে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার নবী হওয়াতে আমি সন্তুষ্ট। আমি তোমাকে এও সাক্ষী রাখছি যে, আমার অর্ধেক সম্পদ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য সাদকা করে দিলাম। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আপনি তাদের কতিপয়ের জন্য নির্ধারণ করুন, কেননা আপনি তাদের সবাইকে দিতে পারবেন না। যায়েদ বলল: তাদের কতিপয়ের জন্যই। এরপর যায়েদ [ইয়াহুদী] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমীপে হাজীর হয়ে বলল:
أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
অর্থাৎ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
সে তাঁর উপর ঈমান আনলো ও তাঁকে নবী রূপে বিশ্বাস স্থাপন করলো। [হাকেম মুসতাদরাকে সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন]
আমরা ঘটনাটিও দীর্ঘ কথোপকথনটি আদ্যপ্রান্ত চিন্তা করি, যাতে আমরা পেতে পারি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ, অনুসরণের একটি বড় শিক্ষণীয় অংশ। মানুষকে দয়া ও নমনিয়তার মাধ্যমে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে পাব ধৈর্যের শিক্ষা। আর যদি তারা সদ্ব্যবহার করে তবে তাতে তাদেরকে উৎসাহিত করা হবে ও তাদের হৃদয়ে শুভ আশাবাদ উজ্জীবিত হবে।