182
Mecca
The name is derived from the word was saaffat with which the Surah begins.
The subject matter and the style show that this Surah probably was sent down in the middle of the Makkan period, or perhaps in the last stage of the middle Makkan period. The style clearly indicates that antagonism is raging strong in the background and the Holy Prophet and his Companions are passing through very difficult and discouraging circumstances.
37:180
سُبْحَـٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ١٨٠
Exalted is your Lord, the Lord of might, above what they describe.
— Saheeh International
তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার রাব্ব, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী।
— Sheikh Mujibur Rahman
37:181
وَسَلَـٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ ١٨١
And peace upon the messengers.
— Saheeh International
শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি।
— Sheikh Mujibur Rahman
37:182
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ١٨٢
And praise to Allāh, Lord of the worlds.
— Saheeh International
প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহরই প্রাপ্য।
— Sheikh Mujibur Rahman
Allah says:
سُبْحَـنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ
(Glorified be your Lord, the Lord of Al-`Izzah!) meaning, the Owner of might and power Whom none can resist.
عَمَّا يَصِفُونَ
((He is free) from what they attribute unto Him!) means, from what these lying fabricators say.
وَسَلَـمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ
(And Salam be on the Messengers!) means, may the peace of Allah be upon them in this world and in the Hereafter, because what they say about their Lord is sound, correct and true.
وَالْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَـلَمِينَ
(And all the praises and thanks be to Allah, Lord of all that exists.) means, praise be to Him at the beginning and end of all things. Because Tasbih (glorification) implies a declaration of being free from all shortcomings, the two ideas appear together here and in many places in the Qur'an. Allah says:
سُبْحَـنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَـمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ- وَالْحَمْدُ للَّهِ رَبّ الْعَـلَمِينَ-
(Glorified be your Lord, the Lord of Al-`Izzah! (He is free) from what they attribute unto Him! And Salam (peace!) be on the Messengers! And all the praises and thanks be to Allah, Lord of all that exists.) Sa`id bin Abi `Arubah narrated that Qatadah said, "The Messenger of Allah ﷺ said:
«إِذَا سَلَّمْتُمْ عَلَيَّ، فَسَلِّمُوا عَلَى الْمُرْسَلِينَ، فَأَنَا رَسُولٌ مِنَ الْمُرْسَلِين»
(When you send Salam on me, send Salam on all the Messengers, for I am one of the Messengers.)" This was recorded by Ibn Jarir and Ibn Abi Hatim. Abu Muhammad Al-Baghawi recorded in his Tafsir that `Ali, may Allah be pleased with him, said: "Whoever wants a greater measure of reward on the Day of Resurrection, let him say at the end of any gathering,
سُبْحَـنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَـمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ- وَالْحَمْدُ للَّهِ رَبّ الْعَـلَمِينَ-
(Glorified be your Lord, the Lord of honor, glory and power! (He is free) from what they attribute unto Him! And Salam (peace!) be on the Messengers! And all the praises and thanks be to Allah, Lord of all that exists)." Other Hadiths concerning the expiation for any wrongs that may have occurred during a gathering prescribe saying the words: "Glory be to You, O Allah, and praise. There is no God except You; I seek your forgiveness and I repent to you. " I have written a chapter dealing exclusively with this topic. This is the end of the Tafsir of Surat As-Saffat. And Allah, may He be glorified and exalted, knows best.
আল্লাহ্ তা'আলা সেই সমুদয় বিষয় হতে নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করছেন যেগুলো যালিম ও মিথ্যাবাদী মুশরিকরা তাঁর প্রতি আরোপ করে থাকে। যেমন তারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান আছে ইত্যাদি। আল্লাহ্ তা'আলা অতি মহান এবং এমন মর্যাদার অধিকারী যা কখনো নষ্ট হবার নয়। ঐ মিথ্যাবাদী ও মিথ্যারোপকারী মুশরিকদের অপবাদ হতে তিনি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। আল্লাহর রাসূলদের (আঃ) প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তাঁদের কথাগুলো ঐসব দোষ হতে মুক্ত যেসব দোষ মুশরিকদের কথাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। নবীরা যেসব কথা বলেন এবং তারা মহান আল্লাহর সত্তার যে শাবলী বর্ণনা করে থাকেন সেগুলো সবই সঠিক ও সত্য। তাঁর সত্তার জন্যেই প্রশংসা শোভনীয়। দুনিয়া ও আখিরাতে শুরুতে ও শেষে প্রশংসা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। সর্বাবস্থায়ই প্রশংসা প্রাপ্তির যোগ্য শুধুমাত্র তিনিই। তাঁর মহিমা ঘোষণা দ্বারা সর্ব প্রকারের ক্ষতি তাঁর পবিত্র সত্তা হতে দূর প্রমাণিত হয়। তাহলে এটা অতি আবশ্যকীয় যে, সর্বপ্রকারের পূর্ণতা তাঁর একক সত্তার মধ্যে থাকবে। এটাকেই পরিষ্কার ভাষায় হামদ বা প্রশংসা দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিসমূহ না সূচক হয় এবং পূর্ণতা হ্যা সূচক হয়। কুরআন কারীমের বহু আয়াতে তাসবীহ্ ও হামদের একই সাথে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।হযরত কাতাদা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আমার উপর সালাম পাঠাবে তখন অন্যান্য নবীদের উপরও সালাম পাঠাবে। কেননা, তাঁদেরই মধ্যে আমিও একজন নবী।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন।
মুসনাদে আহমাদেও এটা বর্ণিত আছে)হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যখন সালামের ইচ্ছা করতেন তখন এই আয়াত তিনটি পড়ে সালাম করতেন। (এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর ইসনাদ দুর্বল)হযরত শা’বী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পরিমাপ যন্ত্র ভর্তি পুণ্য লাভ করতে চায় সে যেন কোন মজলিস হতে উঠে যাওয়ার সময় এই আয়াত তিনটি পাঠ করে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। মুসনাদে আহমাদে এ রিওয়াইয়াতটি হযরত আলী (রাঃ) হতে মাওকুফরূপে বর্ণিত হয়েছে)ইমাম তিবরানী (রঃ)-এর হাদীস গ্রন্থে হযরত আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে এ আয়াত তিনটি তিনবার পাঠ করবে সে পরিমাপ যন্ত্র ভরে ভরে পুণ্য লাভ করবে।”মজলিসের কাফফারার ব্যাপারে বহু হাদীসে নিম্নোক্ত কালেমাটি পাঠ করার কথা এসেছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনার নিকট আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও আপনার নিকট তাওবা করছি।” এই মাসআলার উপর আমি একটি স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উত্তম আচরণ ও তিনি মনোরম দাম্পত্য জীবনের অধিকারী হওয়ার প্রমাণ বহন করে, উম্মুল মু‘মেনীন আয়েশার রাদিয়াল্লাহু আনহার নামকে আদরাচ্ছলে সংক্ষিপ্ত করে আহ্বান করা এবং তাকে এমন খবর পরিবেশন করা যাতে তার হৃদয় যেন তাঁর দিকে উড়ে যায়।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يومًا: «يا عائش! هذا جبريل يقرئك السلام».
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেন: হে আয়েশ! [সংক্ষিপ্তাকারে] জিব্রাঈল [আলাইহিস সালাম] এই মাত্র তোমাকে সালাম দিয়ে গেল”।[বুখারী, হাদিস: ৩৭৬৮; মুসলিম, হাদিস: ৮৯৭৫ ]
মুসলিম উম্মতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিপূর্ণ চরিত্র, সর্বোত্তম আদর্শ ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী। দাম্পত্য জীবনের সর্বোত্তম নমুনা এবং নরম প্রকৃতি স্ত্রীর প্রকৃত আবেগ, অনুভূতি ও চাহিদা সম্পর্কে সম্যক অভিহিত।
তিনি স্ত্রীদেরকে এমন অবস্থান প্রদান করেন যা প্রত্যেক নারীই পছন্দ করবে, যার ফলে স্বামীর নিকট সে তার অর্ধাঙ্গিনীতে পরিণত হতে পারে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
«كنت أشرب وأنا حائض، فأناوله النبي - صلى الله عليه وسلم -، فيضع فاه على موضع في فيشرب، وأتعرق العرق فيتناوله ويضع فاه على موضع في».
আমি ঋতু স্রাবের অবস্থায় কিছু পান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম, আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রেখে পান করতেন এবং আমি হাড়ের মাংস খেয়ে শেষ করলে তিনি তা গ্রহণ করে আমার মুখ লাগানোর স্থানেই মুখ লাগাতেন”। [মুসলিম, হাদিস: ৩০০ ]
তিনি কোন ক্রমেই তেমন ছিলেন না, যা মুনাফিকরা ধারণা পোষণ করে থাকে এবং প্রাচ্যবিদরা যে সমস্ত মিথ্যা, অলীক অপবাদ ও বাতিল দাবী করে থাকে। বরং তিনি দাম্পত্য জীবনে সর্বোত্তম ও সহজ-সরল পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর সুমহান মর্যাদা ও সসম্মান অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ করেছেন। এই যে দেখুন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করত: তাকে শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন: স্ত্রীর ভালবাসা, জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ ও সম্মানিত ব্যক্তিকে কোন ক্রমেই অপমানিত করবে না।
আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
أنه قال لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -: أي الناس أحب إليك؟ قال: «عائشة».
তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার নিকট কোন ব্যক্তি সব চেয়ে প্রিয়? তিনি উত্তরে বলেন: আয়েশা।[বুখারী, হাদিস: ৩৬৬২; মুসলিম, হাদিস: ২৩৮৪ ]
যে ব্যক্তি দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চায় সে যেন মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর এ হাদিসটি ভাল করে ভেবে দেখে: তাতে রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
«كنت أغتسل أنا ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - من إناء واحد».
আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম।[বুখারী, হাদিস: ২৬৩ ]
আল্লাহর এই প্রশস্ত জমিনে আজ যারা ভ্রমণ করে এবং জাতির সরদারের অবস্থার প্রতি চিন্তা-ভাবনা করে; যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আচরণের দ্বারা আনন্দিত হয়। যিনি মহা সম্মানিত নবী, বিজয়ী নেতা, কুরাইশ ও বনি হাশেম সন্তান।
কোন এক বিজয়ের দিন, তিনি বিজয়ী বেশে এক মহা সেনা অভিযানের নেতৃত্ব প্রদান করত: প্রত্যাবর্তন করছেন। এমতাবস্থায়তেও তিনি ছিলেন স্বীয় স্ত্রী মু’মিন জননীদের সাথে মুহাব্বত ও নমনীয়তার মূর্ত প্রতীক। অভিযানের নেতৃত্ব, দীর্ঘ সফর, যুদ্ধের মহা বিজয় তাঁকে ভুলিয়ে দেয়নি যে, তাঁর সাথে রয়েছে দুর্বল স্ত্রী জাতি, যাদের তাঁর সুকোমল পরশ ও আন্তরিক ফিস ফি-সানির অধিকার ও প্রয়োজন রয়েছে। যা তাদের দীর্ঘ রাস্তার কষ্ট ও সফরের ক্লান্তি দূর করবে।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারের যুদ্ধ শেষে ফিরছিলেন তখন সাফিয়া বিনতে হুয়াই রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেন, এবার যে উটের পিঠে সাফিয়া আরোহণ করবেন তার চার দিকে ঘুরে পর্দার জন্য কাপড় লাগানোর পর তিনি উটের পার্শে বসে তাঁর হাটুকে খাড়া করে দিলেন। অত:পর সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বীয় পা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুতে রেখে উঠে আরোহণ করেন।
সে আকৃষ্ট-কারী দৃশ্যটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিনয়ের বহি:প্রকাশ।
অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিজয়ী কমান্ডার, ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে দূত বা রাসূল, তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, স্ত্রীকে সাহায্য করা, তার সাথে বিনয়ী হওয়া, তাদের কাজে সহায়তা এবং তাদেরকে সুখ ও মজা প্রদানে তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কোন কমতি হবে না।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরকে যে সব অসীয়ত করেন তন্মধ্যে একটি হল:
«ألا واستوصوا بالنساء خيرًا».
ওহে আমার উম্মত! তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে”।[বুখারি, হাদিস: ৫১৮৬; মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৮ ]