88
Mecca
The Surah takes its name from the alphabetic letter Suad with which it begins.
As will be explained below, according to some traditions this Surah was sent down in the period when the Holy Prophet had started calling the people openly to Islam in Makkah, and this had caused great alarm among the chiefs of the Quraish. If this be true, its period of revelation would be about the 4th year of the Prophethood. According to some other traditions, it was sent down after Hadrat Umar's embracing Islam, and this happened, as is well known, after the migration to Habash. Another chain of the traditions shows that the event which occasioned the revelation of this Surah took place during the last illness of Abu Talib. If this be correct, the period of its revelation would be the 10th or 11th year of the Prophethood
38:17
ٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُۥدَ ذَا ٱلْأَيْدِ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ ١٧
Be patient over what they say and remember Our servant, David, the possessor of strength; indeed, he was one who repeatedly turned back [to Allāh].
— Saheeh International
তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আর স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় আল্লাহর অভিমুখী।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:18
إِنَّا سَخَّرْنَا ٱلْجِبَالَ مَعَهُۥ يُسَبِّحْنَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِشْرَاقِ ١٨
Indeed, We subjected the mountains [to praise] with him, exalting [Allāh] in the [late] afternoon and [after] sunrise.
— Saheeh International
আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, ওরা সকাল সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:19
وَٱلطَّيْرَ مَحْشُورَةًۭ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥٓ أَوَّابٌۭ ١٩
And the birds were assembled, all with him repeating [praises].
— Saheeh International
এবং সমবেত বিহংকুলকেও, সবাই ছিল তার অভিমুখী।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:20
وَشَدَدْنَا مُلْكَهُۥ وَءَاتَيْنَـٰهُ ٱلْحِكْمَةَ وَفَصْلَ ٱلْخِطَابِ ٢٠
And We strengthened his kingdom and gave him wisdom and discernment in speech.
— Saheeh International
আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফাইসালাকারী বাগ্মিতা।
— Sheikh Mujibur Rahman
Al-Ayd means strength in knowledge and action. Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, As-Suddi and Ibn Zayd said, "Al-Ayd means strength." Mujahid said, "Al-Ayd means strength in obedience to Allah." Qatadah said, "Dawud, peace be upon him, was given strength in worship and the proper understanding of Islam." He told us that he, peace be upon him, used to spend a third of the night in prayer, and he fasted for half a lifetime. This was reported in the Two Sahihs, where it is recorded that the Messenger of Allah ﷺ said:
«أَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللهِ تَعَالَى صَلَاةُ دَاوُدَ، وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ صِيَامُ دَاوُدَ، كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَيَقُومُ ثُلُثَهُ، وَيَنَامُ سُدُسَهُ، وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، وَلَا يَفِرُّ إِذَا لَاقَى، وَأَنَّهُ كَانَ أَوَّابًا»
(The most beloved of prayer to Allah is the prayer of Dawud, and the most beloved of fasting to Allah is the fasting of Dawud. He used to sleep for half of the night, stand in prayer for a third of the night, then sleep for a sixth of the night, and he used to fast alternate days. He never fled from the battlefield, and he always turned to Allah.) which means that he turned to Allah with regard to all of his affairs.
إِنَّا سَخَّرْنَا الجِبَالَ مَعَهُ يُسَبِّحْنَ بِالْعَشِىِّ وَالإِشْرَاقِ
(Verily, We made the mountains to glorify Our praises with him in the `Ashi and Ishraq. ) means, Allah caused the mountains to glorify His praises with him at sunrise and at the end of the day. This is like the Ayah:
يَجِبَالُ أَوِّبِى مَعَهُ وَالطَّيْرَ
(O you mountains. Glorify (Allah) with him! And you birds (also)!) (34:10). The birds also used to glorify Allah's praises with him. If a bird flew by him and heard him chanting the Zabur, it would not go away; instead it would stay hovering in the air, glorifying Allah along with him. And the lofty mountains would respond to him and echo his glorification of Allah. Ibn Jarir recorded from `Abdullah bin Al-Harith bin Nawfal that Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, did not pray Ad-Duha. `Abdullah said: "So I took him to Umm Hani, may Allah be pleased with her, and said to her, `Tell him what you told me.' She said, `The Messenger of Allah ﷺ entered my house on the day of the conquest of Makkah. He called for water to be poured into a large bowl, then he called for a garment which he used as a screen between me and him, and he washed himself. Then he sprinkled water around the house and prayed eight Rak`ahs. This was Ad-Duha, and its standing, bowing, prostration and sitting were all equal in brevity.' Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, left, saying, `I have read the Qur'an from cover to cover, and I never knew about Salat Ad-Duha until now!' Then he recited:
يُسَبِّحْنَ بِالْعَشِىِّ وَالإِشْرَاقِ
(glorify Our praises with him in the `Ashi and Ishraq.) I used to say, "What is Salat Al-Ishraq, but now I know what it is."
وَالطَّيْرَ مَحْشُورَةً
(And (so did) the birds assembled,) meaning, hovering in the air.
كُلٌّ لَّهُ أَوَّابٌ
(all obedient to him.) means, they obeyed him and followed him in glorifying Allah. Sa`id bin Jubayr, Qatadah and Malik said, narrating from Zayd bin Aslam and Ibn Zayd:
كُلٌّ لَّهُ أَوَّابٌ
(all obedient to him.) means, "Following his commands."
وَشَدَدْنَا مُلْكَهُ
(We made his kingdom strong) means, `We gave him complete dominion with all that kings need.' Ibn Abi Najih reported that Mujahid said, "He was the strongest and most powerful of the people of this world."
وَءَاتَيْنَـهُ الْحِكْمَةَ
(and gave him Al-Hikmah) Mujahid said, "This means understanding, reason and intelligence." Qatadah said, "The Book of Allah and following what is in it." As-Suddi said:
الْحِكْمَةَ
(Al-Hikmah) "Prophethood."
وَفَصْلَ الْخِطَابِ
(and sound judgement) Shurayh Al-Qadi and Ash-Sha`bi said, "Sound judgement is testimony and oaths." Qatadah said, "Two witnesses for the plaintiff or an oath on the part of the defendant is meaning of sound judgement." This is the sound judgement which the Prophets and Messengers judged and the believers and righteous accepted. This is the basis of this Ummah's judicial system until the Day of Resurrection. This was the view of Abu `Abdur-Rahman As-Sulami. Mujahid and As-Suddi said, "It means passing the right judgement and understanding the case." Mujahid also said, "It is soundness in speech and in judgement, and this includes all of the above." This is what is meant, and this is the view favored by Ibn Jarir.
(আরবী) দ্বারা জ্ঞান ও আমল সম্পর্কীয় শক্তি বুঝানো হয়েছে এবং শুধু শক্তিও অর্থ হয়ে থাকে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে আনুগত্যের শক্তি উদ্দেশ্য। হযরত দাউদ (আঃ)-কে ইবাদতের শক্তি এবং ইসলামের বোধশক্তি দান করা হয়েছিল। এটা উল্লিখিত আছে যে, তিনি রাত্রির এক তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ নামাযে কাটিয়ে দিতেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নামায হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর রাত্রির নামায এবং সবচেয়ে পছন্দনীয় রোযা হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর দিনের রোযা। হযরত দাউদ (আঃ) অর্ধরাত্রি শুয়ে থাকতেন এবং এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত নামায পড়তেন। তারপর এক ষষ্ঠাংশ রাত পর্যন্ত আবার ঘুমিয়ে থাকতেন। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযাহীন অবস্থায় থাকতেন। আর দ্বীনের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে কখনো পৃষ্ঠ প্রদর্শন করতেন না। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রতি আকৃষ্ট হতেন এবং তাঁর দিকে রুজু করতেন।” মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো।
যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদ (আঃ)-এর সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং বিহংগকুলকেও।” (৩৪:১০) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে পর্বতমালা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো। অনুরূপভাবে পক্ষীকুলও তার শব্দ শুনে তাঁর সাথে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে শুরু করতো। উড়ন্ত পাখী তার পার্শ্ব দিয়ে গমন করতো। ঐ সময় তিনি তাওরাত পাঠ করলে তার সাথে পাখীরাও তাওরাত পাঠে নিমগ্ন হয়ে পড়তো এবং উড়া বন্ধ করে বসে যেতো।রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর ঘরে আট রাকআত নামায পড়েন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা এই যে, এটাও নামাযের সময়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “তারা তার সাথে সকাল-সন্ধ্যায় আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো।”আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফিল (রাঃ) বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) চাশতের নামায পড়তেন না। আমি একদা তাঁকে হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাকে বললামঃ একে আপনি ঐ হাদীসটি শুনিয়ে দেন যা আমাকে শুনিয়েছিলেন।
তখন হযরত উম্মে হানী (রাঃ) বললেনঃ “মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার বাড়ীতে আমার কাছে আসলেন এবং এসে একটি বরতনে পানি ভর্তি করিয়ে নিলেন। অতঃপর কাপড়ের পর্দা করে নিয়ে গোসল করতে বসলেন। এরপর ঘরের এক কোণে পানি ছিটিয়ে দিয়ে চাশতের আট রাকআত নামায আদায় করলেন। এতে তার কিয়াম, রুকূ', সিজদা এবং উপবেশন প্রায় সমান ছিল।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি শুনে যখন সেখান হতে বেরিয়ে আসলেন তখন তিনি বলতে লাগলেনঃ “আমি কুরআন কারীম সম্পূর্ণটাই পাঠ করেছি, কিন্তু চাশতের নামায কি তা আমি জানতাম না। আজ জানলাম যে, এটা (আরবী)-এই আয়াতের মধ্যেই রয়েছে। ইশরাক দ্বারা চাশতকে বুঝানো হয়েছে। এরপর তিনি তাঁর পূর্ব উক্তি হতে ফিরে আসেন।মহান আল্লাহ বলেন যে, পক্ষীকুলও হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে আল্লাহর তাসবীহ পাঠে অংশ নিতো। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি দাউদ (আঃ)-এর রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম। বাদশাহদের যতগুলো জিনিসের প্রয়োজন সবই তাঁকে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যহ চার হাজার রক্ষী বাহিনী তার পাহারায় নিযুক্ত থাকতো। পূর্বযুগীয় কোন কোন। গুরুজন হতে বর্ণিত আছে যে, পালাক্রমে প্রতি রাত্রে তেত্রিশ হাজার প্রহরী পাহারা দিতো এবং এক রাত্রে যারা পাহারা দিতো, এক বছর পর্যন্ত তাদের আর পালা আসতো না।
চল্লিশ হাজার লোক সর্বক্ষণ তার খিদমতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় প্রস্তুত থাকতো।একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত দাউদ (আঃ)-এর যুগে বানী ইসরাঈলের দু’জন লোকের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একজন অপরজনকে এই অপবাদ দেয় যে, সে তার গরু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। অপর ব্যক্তি এ অপরাধ অস্বীকার করে। হযরত দাউদ (আঃ) বাদীর নিকট প্রমাণ তলব করেন। কিন্তু সে প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়। হযরত দাউদ (আঃ) তখন তাদেরকে বললেনঃ “আগামীকাল তোমাদের বিচার মীমাংসা করা হবে।" রাত্রে হযরত দাউদ (আঃ)-কে স্বপ্নে হুকুম দেয়া হয় যে, তিনি যেন বাদী লোকটিকে হত্যা করেন। সকালে তোক দু'টিকে ডাকিয়ে নিয়ে হযরত দাউদ (আঃ) বাদীকে হত্যা করার আদেশ জারি করেন। তখন বাদী লোকটি বলেঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আপনি আমাকেই হত্যা করার নির্দেশ দিলেন, অথচ এ লোকটি আমার গরু গসব করে নিয়েছে।” তখন তিনি বললেনঃ “দেখো, এটা আমার হুকুম নয়, বরং আল্লাহর ফায়সালা।
সুতরাং এ হুকুম টলতে পারে না। অতএব তুমি প্রস্তুত হয়ে যাও।" সে তখন বললোঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আল্লাহর শপথ! আমি যা দাবী করেছি সেই কারণে আল্লাহ আমাকে হত্যা করার নির্দেশ আপনাকে দেননি। এবং সে যে আমার গরু গসব করে নিয়েছে এ দাবীতে আমি অবশ্যই সত্যবাদী। বরং আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়ার কারণ শুধু আমিই জানি। ব্যাপার এই। যে, আজ রাত্রে আমি এ লোকটির পিতাকে প্রতারিত করে হত্যা করেছি এবং এটা আমি ছাড়া আর কেউই জানে না। এরই প্রতিশোধ হিসেবে আল্লাহ আপনাকে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তাকে হত্যা করে দেয়া হলো। এ ঘটনার পর প্রত্যেকের অন্তরে হযরত দাউদ (আঃ)-এর ভীতি স্থাপিত হলো। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে হিকমত দিয়েছিলাম। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ বোধশক্তি, জ্ঞান ও নিপুণতা। মুররাহ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ ন্যায়পরায়ণতা ও সঠিকতা।
কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর-অর্থ হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাতে যা রয়েছে। তার অনুসরণ। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমতের অর্থ হলো নবুওয়াত।মহান আল্লাহর উক্তিঃ আর আমি তাকে দিয়েছিলাম ফায়সালাকারী বাগ্মিতা অর্থাৎ বিবাদ মীমাংসার সুন্দর নীতি। যেমন সাক্ষী নেয়া, কসম খাওয়ানো। অর্থাৎ বাদীর নিকট সাক্ষ্য-প্রমাণ চাওয়া এবং বিবাদীর নিকট হতে শপথ নেয়া। ফায়সালার জন্যে নবীদের (আঃ) ও সৎ লোকদের পন্থা এটাই ছিল। এই উম্মতের মধ্যেও এই পন্থাই চালু আছে। হযরত দাউদ (আঃ) মুকদ্দমার গভীরে পৌঁছে যেতেন এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন। তাঁর মুখের ভাষাও খুব পরিষ্কার ছিল এবং তিনি হুকুমও দিতেন ইনসাফ মুত্যবিক। তিনিই (আরবী) কথার সূচনা করেন এবং (আরবী) ঐ দিকেই ইঙ্গিত করছে।
মদিনার রাত সমাগত তার চারি দিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন। কিন্তু রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার চারি পার্শ্বে সালাত, যিকির ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন, রাত্রি জাগরণ করছেন..। তিনি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের মালিক, যার হাতে সকল কিছুর চাবি-কাঠি স্বীয় স্রষ্টা মহান প্রভুর নির্দেশ পালনার্থে তাঁর সমীপে মুনাজাত করছেন। নির্দেশ হচ্ছে:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمُزَّمِّلُ ١ قُمِ ٱلَّيۡلَ إِلَّا قَلِيلٗا ٢ نِّصۡفَهُۥٓ أَوِ ٱنقُصۡ مِنۡهُ قَلِيلًا ٣ أَوۡ زِدۡ عَلَيۡهِ وَرَتِّلِ ٱلۡقُرۡءَانَ تَرۡتِيلًا ٤ ﴾ [المزمل: ١، ٤]
অর্থাৎ: হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রি জাগরণ করুন, কিছু অংশ ব্যতীত, অর্ধরাত্রি বা তা অপেক্ষা অল্প, অথবা তা অপেক্ষা বেশী। আর কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে। [সূরা মুযাম্মিল, আয়াত: ১-৪ ] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقوم يصلي حتى تنتفخ قدماه، فيقال له: يا رسول الله تفعل هذا وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: «أفلا أكون عبدًا شكورًا؟».
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত নামাজ আদায় করতেন যে, তার দুই পা ফুলে যেত। তাকে বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল আপনার আগের ও পরের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে তবুও কেন আপনি এত ইবাদাত করেন? তিনি উত্তরে বলেন: আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী বান্দা হবো না?। [বুখারি, হাদিস: ১১৩০; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪১৯ ]
আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ বলেন:
سألت عائشة رضي الله عنها عن صلاة رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالليل فقالت: «كان ينام أول الليل ثم يقوم فإذا كان له حاجة ألم بأهله، فإذا سمع الأذان وثب، فإن كان جنبًا أفاض عليه من الماء وإلا توضأ وخرج إلى الصلاة».
আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাত্রি কালীন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি উত্তরে বললেন: তিনি প্রথম রাত্রিতে ঘুমিয়ে যেতেন। অত:পর তিনি জাগ্রত হয়ে নামাজ আদায় করতেন, তারপর স্ত্রীর সাথে কোন প্রকার প্রয়োজন মনে করলে তা পূরণ করতেন। আর আযান শুনার সাথে সাথেই লাফিয়ে উঠে পড়তেন, গোসলের প্রয়োজন হলে তা সেরে নিতেন অথবা অজু করে নামাযের জন্য বেরিয়ে যেতেন। [বুখারী ]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত ছিল অনেক সুন্দর ও দীর্ঘ, আমরা একটু ভাল করে অনুধাবন করে স্বীয় জীবনে নমুনা হিসেবে বাস্তবায়ন করব!
আবু আব্দুল্লাহ হুযাইফা বিন আলইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«صليت مع النبي - صلى الله عليه وسلم - ليلة فافتتح البقرة، فقلت: يركع عند المائة، ثم مضى فقلت: يصلي بها في ركعة، فمضى، ثم افتتح آل عمران فقرأها، فقلت: يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، يقرأ مترسلاً، إذا مر بآية فيها تسبيح سبح، وإذا مر بسؤال سأل، وإذا مر بتعوذ تعوذ، ثم ركع فجعل يقول: سبحان ربي العظيم، فكان ركوعه نحوًا من قيامه، ثم قال: سمع الله لمن حمده، ربنا لك الحمد، ثم قام طويلاً قريبًا مما ركع، ثم سجد فقال: سبحان ربي الأعلى، فكان سجوده قريبًا من قيامه».
আমি এক রাত্রিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করি, তিনি সূরা বাকারা পড়া শুরু করলেন, আমি ভাবলাম তিনি হয়তো একশ আয়াত শেষে রুকুতে যাবেন, তিনি পড়তেই থাকলেন, আমি মনে করলাম তিনি হয়তো সম্পূর্ণ সূরা শেষ করে রুকুতে যাবেন, তিনি সূরা বাকারা শেষ করে সূরা আলে ইমরান পড়া আরম্ভ করলেন, আমি মনে করলাম তিনি হয়তো এ সূরা শেষ করে রুকুতে যাবেন, তারপর তিনি সূরা নিসা পড়া আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তিনি ধীর-স্থির ভাবে তাজভীদের সাথে পড়েন। যদি এমন কোন আয়াত অতিবাহিত হত যাতে তাসবীহ রয়েছে, সেখানে তিনি তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পড়তেন। আর প্রার্থনা বিষয়ক কোন আয়াত পাঠ করলে, তিনি আল্লাহর সমীপে প্রার্থনা করেন, আর আযাব বিষয়ক কোন আয়াত পাঠ করলে তিনি তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তারপর তিনি রুকু করেন। আর তাতে তিনি “সুবহানা রাব্বিয়ালা আযীম” পাঠ করেন। তার রুকুর পরিমাণও ছিল, প্রায় দাঁড়িয়ে থাকার সমপরিমাণ। রুকু থেকে উঠে “সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হামদ” পাঠ করেন, তারপর প্রায় রুকু করার সমপরিমাণ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর সিজদা করে “সুবাহানা রাব্বিয়ালা আলা” পাঠ করেন, তার সিজদাও প্রায় তাঁর দাঁড়ানোর সময়ের সমপরিমাণই ছিল। [মুসলিম, হাদিস: ৭৭২; আহমদ, হাদিস: ২৩৩৬৭ ]