88
Mecca
The Surah takes its name from the alphabetic letter Suad with which it begins.
As will be explained below, according to some traditions this Surah was sent down in the period when the Holy Prophet had started calling the people openly to Islam in Makkah, and this had caused great alarm among the chiefs of the Quraish. If this be true, its period of revelation would be about the 4th year of the Prophethood. According to some other traditions, it was sent down after Hadrat Umar's embracing Islam, and this happened, as is well known, after the migration to Habash. Another chain of the traditions shows that the event which occasioned the revelation of this Surah took place during the last illness of Abu Talib. If this be correct, the period of its revelation would be the 10th or 11th year of the Prophethood
38:21
۞ وَهَلْ أَتَىٰكَ نَبَؤُا۟ ٱلْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُوا۟ ٱلْمِحْرَابَ ٢١
And has there come to you the news of the adversaries, when they climbed over the wall of [his] prayer chamber -
— Saheeh International
তোমার নিকট বিবাদকারী লোকের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে এল ইবাদাতখানায় –
— Sheikh Mujibur Rahman
38:22
إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَىٰ دَاوُۥدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ ۖ قَالُوا۟ لَا تَخَفْ ۖ خَصْمَانِ بَغَىٰ بَعْضُنَا عَلَىٰ بَعْضٍۢ فَٱحْكُم بَيْنَنَا بِٱلْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ وَٱهْدِنَآ إِلَىٰ سَوَآءِ ٱلصِّرَٰطِ ٢٢
When they entered upon David and he was alarmed by them? They said, "Fear not. [We are] two adversaries, one of whom has wronged the other, so judge between us with truth and do not exceed [it] and guide us to the sound path.
— Saheeh International
এবং দাউদের নিকট পৌঁছল, তখন তাদের কারণে সে ভীত হয়ে পড়ল। তারা বললঃ ভীত হবেননা, আমরা দুই বিবাদমান পক্ষ - আমরা একে অপরের উপর যুল্ম করেছি; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করুন, অবিচার করবেননা এবং আমাদেরকে সঠিক পথ নির্দেশ করুন।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:23
إِنَّ هَـٰذَآ أَخِى لَهُۥ تِسْعٌۭ وَتِسْعُونَ نَعْجَةًۭ وَلِىَ نَعْجَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ فَقَالَ أَكْفِلْنِيهَا وَعَزَّنِى فِى ٱلْخِطَابِ ٢٣
Indeed this, my brother, has ninety-nine ewes, and I have one ewe; so he said, 'Entrust her to me,' and he overpowered me in speech."
— Saheeh International
এ আমার ভাই - এর আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা; তবুও সে বলে আমার জিম্মায় এটি দিয়ে দাও, এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছে।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:24
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَىٰ نِعَاجِهِۦ ۖ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلْخُلَطَآءِ لَيَبْغِى بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَقَلِيلٌۭ مَّا هُمْ ۗ وَظَنَّ دَاوُۥدُ أَنَّمَا فَتَنَّـٰهُ فَٱسْتَغْفَرَ رَبَّهُۥ وَخَرَّ رَاكِعًۭا وَأَنَابَ ۩ ٢٤
[David] said, "He has certainly wronged you in demanding your ewe [in addition] to his ewes. And indeed, many associates oppress one another, except for those who believe and do righteous deeds - and few are they." And David became certain that We had tried him, and he asked forgiveness of his Lord[1] and fell down bowing [in prostration] and turned in repentance [to Allāh].
— Saheeh International
[1]- For his errors, such as fear and suspicion of the two men at the outset, any mistake in judgement he might have made, concealed feelings of partiality, etc.
দাউদ বললঃ তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলির সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি যুল্ম করেছে। শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অবিচার করে থাকে, করেনা শুধু মু’মিন ও সৎ কর্মশীল ব্যক্তিরা এবং তারা সংখ্যায় স্বল্প। দাউদ বুঝতে পারল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করলাম। অতঃপর সে তার রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়ল ও তাঁর অভিমুখী হল। [সাজদাহ]
— Sheikh Mujibur Rahman
38:25
فَغَفَرْنَا لَهُۥ ذَٰلِكَ ۖ وَإِنَّ لَهُۥ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَـَٔابٍۢ ٢٥
So We forgave him that; and indeed, for him is nearness to Us and a good place of return.
— Saheeh International
অতঃপর আমি তার ক্রটি ক্ষমা করলাম। আমার নিকট তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
— Sheikh Mujibur Rahman
In discussing this passage, the scholars of Tafsir mention a story which is mostly based upon Isra'iliyat narrations. Nothing has been reported about this from the Infallible Prophet that we could accept as true. But Ibn Abi Hatim narrated a Hadith whose chain of narration cannot be regarded as Sahih because it is reported by Yazid Ar-Raqashi from Anas, may Allah be pleased with him. Although Yazid was one of the righteous, his Hadiths are regarded as weak by the Imams. So, it is better to speak briefly of this story and refer knowledge of it to Allah, may He be exalted. For the Qur'an is true and what it contains is also true.
فَفَزِعَ مِنْهُمْ
(he was terrified of them.) This was because he was in his Mihrab (private chamber). That was the noblest part of his house, where he commanded that no one should enter upon him that day. So, he did not realize that these two people had climbed the fence surrounding his Mihrab (private chamber) to ask him about their case.
وَعَزَّنِى فِى الْخِطَابِ
(and he overpowered me in speech.) means, `he defeated me.'
وَظَنَّ دَاوُودُ أَنَّمَا فَتَنَّـهُ
(And Dawud guessed that We have tried him) `Ali bin Abi Talhah reported that Ibn `Abbas said that this means, "We tested him."
وَخَرَّ رَاكِعاً وَأَنَابَ
(and he fell down prostrate and turned (to Allah) in repentance.)
فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ
(So, We forgave him that,)
The performance of Sajdah in Surah Sad is not one of the obligatory locations; it is a prostration of thanks (Sajdat Shukr). The evidence for it is the report recorded by Imam Ahmad from Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, who said; "The prostration in Surah Sad is not one of the obligatory prostrations; I saw the Messenger of Allah ﷺ prostrating in this Surah." This was also recorded by Al-Bukhari, Abu Dawud, At-Tirmidhi, and An-Nasa'i in his Tafsir. At-Tirmidhi said, "Hasan Sahih." In his Tafsir of this Ayah, An-Nasa'i also recorded that Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, said, "The Prophet prostrated in Sad, and he said:
«سَجَدَهَا دَاوُدُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ تَوْبَةً، وَنَسْجُدُهَا شُكْرًا»
(Dawud prostrated as an act of repentance and we prostrate as an act of thanks.)" This was recorded only by An-Nasa'i. The men of its chain of narration are all reliable. In his Tafsir of this Ayah, Al-Bukhari recorded that Al-`Awwam said that he asked Mujahid about the prostration in Surah Sad. He said, `I asked Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, `Why do you prostrate' He said, `Have you not read:
وَمِن ذُرِّيَّتِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَـنَ
(and among his Nuh's progeny Dawud, Sulayman) (6:84)
أُوْلَـئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ
(They are those whom Allah had guided. So follow their guidance) (6:90). Dawud, peace be upon him, was one of those whom your Prophet was commanded to follow. Dawud prostrated here so the Messenger of Allah ﷺ also prostrated here."' Abu Dawud recorded that Abu Sa`id Al-Khudri, may Allah be pleased with him, said, "The Messenger of Allah ﷺ recited Sad while he was on the Minbar. When he reached the prostration, he came down from the Minbar and prostrated, and the people prostrated with him. On another occasion when he recited it, he reached the prostration and the people prepared to prostrate. He said:
«إِنَّمَا هِيَ تَوْبَةُ نَبِيَ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُكُمْ تَشَزَّنْتُم»
(This is repentance for a Prophet, but I see that you are preparing to prostrate.) Then he came down (from the Minbar) and prostrated." This was recorded only by Abu Dawud and its chain of narration meets the conditions of the Two Sahihs.
وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَـَابٍ
(and verily, for him is a near access to Us, and a good place of (final) return.) means, on the Day of Resurrection, he will have good deeds by virtue of which he will be brought close to Allah, and he will have a good place of (final) return, which means the lofty levels of Paradise, because of his repentance and his perfect justice in his kingdom. As it says in the Sahih:
«الْمُقْسِطُونَ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمنِ، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ، الَّذِينَ يُقْسِطُونَ فِي أَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا»
(Those who are fair and just with their families and those who are under their authority will be on Minbars of light on the right hand of Ar-Rahman, and both His Hands are right Hands.)"
তাফসীরকারগণ এখানে একটি গল্প বর্ণনা করেছেন যার অধিকাংশই বানী ইসরাঈলের রিওয়াইয়াত হতে নেয়া হয়েছে। এটা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে একটি হাদীস রয়েছে বটে, কিন্তু ওটাও সঠিক নয়। কেননা, ইয়াযীদ রাকাশী নামক এর একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি খুব সৎ লোক হলেও নিঃসন্দেহে দুর্বল। সুতরাং উত্তম কথা এই যে, কুরআন কারীমে যা আছে তা-ই সত্য এবং যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছে তা-ই সঠিক। দু’জন লোককে ঘরের মধ্যে দেখে হযরত দাউদ (আঃ)-এর ভীত হওয়ার কারণ এই যে, তিনি নির্জন কক্ষে একাকী অবস্থান করছিলেন এবং প্রহরীদেরকে ঘরের মধ্যে সেই দিন কাউকেও প্রবেশ করতে দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু এতদসত্ত্বেও এই দু’জনকে ঘরে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করতে দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েছিলেন।(আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ কথা-বার্তায় সে আমার উপর জয়লাভ করেছে এবং আমার উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। অর্থাৎ কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছে। হযরত দাউদ (আঃ) বুঝে ফেলেন যে, এটা তাঁর উপর মহান আল্লাহর পরীক্ষা। সুতরাং তিনি রুকু ও সিজদা করতঃ আল্লাহ তাআলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। বর্ণিত আছে যে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তিনি সিজদা হতে মাথা উঠাননি।মহান আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর আমি তার ত্রুটি ক্ষমা করলাম। এটা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, যে কাজ সাধারণের জন্যে পুণ্যের হয় সেই কাজটিই বিশিষ্ট লোকদের জন্যে পাপের হয়ে থাকে।এটা সিজদার আয়াত কি-না এ বিষয়ে ইমাম শাফেয়ী (রঃ)-এর নতুন মাযহাব এই যে, এখানে সিজদা জরুরী নয়। এটা তো সিজদায়ে শুক্র। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তি এই যে, (আরবী)-এর মধ্যে সিজদা বাধ্যতামূলক নয়।
তিনি বলেনঃ “তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এতে সিজদা করতে দেখেছি।" (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)সুনানে নাসাঈতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এখানে সিজদা করার পর বলেনঃ “হযরত দাউদ (আঃ)-এর জন্যে এই সিজদা ছিল তাওবার এবং আমাদের জন্যে এ সিজদা হলো শোকরের।”হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সঃ)-এর কাছে একটি লোক এসে বললোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পিছনে নামায পড়ছি এবং নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করছি ও সিজদা করছি। তখন আমার সাথে গাছটিও সিজদা করলো এবং আমি গাছটিকে নিম্নলিখিত দুআ পড়তে শুনলামঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি আমার এই সিজদাকে আমার জন্যে আপনার নিকট পুণ্য ও যখীরার কারণ বানিয়ে দিন, আর এর মাধ্যমে আমার পাপের বোঝা হালকা করে দিন এবং এটা কবুল করে নিন, যেমন কবুল করেছিলেন আপনার বান্দা হযরত দাউদ (আঃ)-এর সিজদাকে। তখন আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দাঁড়িয়ে গিয়ে নামায আদায় করলেন এবং সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদা করলেন। ঐ সিজদায় তিনি ঐ দুআই পড়লেন যে দুআটির কথা লোকটি গাছটির দু'আ বলে বর্ণনা করেছিল।” (এ হাদীসটি জামেউত তিরমিযী ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে)
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের সিজদার উপর দলীল পেশ করেছেন যে, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “তার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল দাউদ (আঃ) ও সুলাইমান (আঃ), যাদেরকে আমি হিদায়াত দান করেছিলাম। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের হিদায়াতের অনুসরণ কর। তাহলে বুঝা গেল যে, তাঁদের অনুসরণ করতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) আদিষ্ট ছিলেন। আর এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, হযরত দাউদ (আঃ) সিজদা করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহও (সঃ) এই সিজদা করেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি যেন সূরায়ে সোয়দি লিখছেন এটা তিনি স্বপ্নে দেখতে পান। যখন তিনি সিজদার আয়াতে পৌঁছেন তখন দেখেন যে, কলম, দোয়াত ও আশে পাশের সবকিছুই সিজদা করলো। তিনি তাঁর স্বপ্নের কথা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট বর্ণনা করেন। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই আয়াত পাঠ করে বরাবরই সিজদা করতেন। (এ হদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা মিম্বরের উপর সূরায়ে সোয়াদ পাঠ করেন। সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছে তিনি মিম্বর হতে অবতরণ করেন ও সিজদা করেন। তার সাথে অন্যান্য সবাই সিজদা করেন। অন্য একদিন মিম্বরের উপর তিনি এই সূরাটি পাঠ করেন। যখন তিনি সিজদার আয়াতে পৌঁছেন তখন জনগণ সিজদার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এ দেখে তিনি বলেনঃ “এটা তো ছিল হযরত দাউদ (আঃ)-এর তাওবার সিজদা।
আর আমি দেখি যে, তোমরাও সিজদার জন্যে প্রস্তুত হয়ে গেছো?” অতঃপর তিনি মিম্বর হতে নেমে সিজদা করেন। (এ হদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আমার নিকট দাউদ (আঃ)-এর জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম। কিয়ামতের দিন তিনি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবেন। কেননা, তিনি স্বীয় রাজ্যে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছেঃ “সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ লোকেরা নূরের মিম্বরের উপর রহমানের (আল্লাহর) ডানদিকে অবস্থান করবে, আল্লাহর উভয় হস্তই ডান, তারা ঐ সব সুবিচারক যারা তাদের পরিবার পরিজন ও যাদের তারা মালিক তাদের মধ্যে সুবিচার করে থাকে।” হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং সবচেয়ে বেশী তাঁর নৈকট্যলাভকারী বান্দা হবে ন্যায়-বিচারক বাদশাহ। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর সবচেয়ে বড় শত্রু ও কঠিন আযাব প্রাপ্ত ব্যক্তি হবে অত্যাচারী বাদশাহ।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত মালিক ইবনে দীনার (রাঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন হযরত দাউদ (আঃ)-কে আরশের পায়ার নিকট দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে বলবেনঃ “হে দাউদ (আঃ)! তুমি দুনিয়ায় যে মিষ্টি ও করুণ সুরে আমার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে সেভাবে এখনো কর।” তিনি উত্তরে বলবেনঃ “হে আল্লাহ! এখন ঐ সুর ও আওয়াজ কোথায়?” জবাবে আল্লাহ পাক বলবেনঃ “আজও আমি তোমাকে ঐ সুর ও শব্দ দান করলাম।” তখন হযরত দাউদ (আঃ) তাঁর মর্মস্পর্শী ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় আল্লাহর প্রশংসাগীতি গাইবেন। এটা শুনে জান্নাতীরা অন্য সব নিয়ামতের কথা ভুলে যাবে। তার এই সুমিষ্ট সুর এবং জ্যোতির্ময় কণ্ঠের মাধ্যমে সব কিছুকে ভুলিয়ে দিয়ে তাদেরকে তিনি নিজের দিকে আকৃষ্ট করবেন।
মদিনায় রাত্রি অবসানের পর, পূর্বাকাশে ফজরের আভা উঁকি দেয়ার পর, মসজিদে ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায়ান্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন, তারপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।
জাবের বিন সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أن النبي - صلى الله عليه وسلم - كان إذا صلى الفجر جلس في مصلاه حتى تطلع الشمس حسنًا».
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর নামাযান্তে উত্তমরূপে সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাযের স্থানেই বসে থাকতেন। [মুসলিম, হাদিস: ৬৭০ ]
আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই রাকাত সুন্নাত সালাত পড়ার জন্য তার উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেন, এবং এতে যে সওয়াব রয়েছে তাও স্মরণ করিয়ে দেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«من صلى الفجر في جماعة،ثم قعد يذكر الله حتى تطلع الشمس ثم صلى ركعتين، كانت له كأجر حجة وعمرة، تامة، تامة، تامة».
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায়ান্তে বসে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করবে, সে পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে। পরিপূর্ণ এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন। [তিরমিযী, হাদিস: ৫৮৬ ]
চাশতের সালাত
দ্বিপ্রহর হবে হবে ভাব, সূর্যের তাপের প্রখরতা বেড়ে চলছে, তাপে মুখ পুড়ে যাবার উপক্রম এ সময়টা হল চাশতের সময়, কাজের চাপ অনেক, জীবন যাপনের চাহিদা পূরণের কত ব্যস্ততা, রিসালাতের প্রচুর দায়িত্ব, প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত, সাহাবীদের শিক্ষা প্রদান ও পরিবারের সবার অধিকার আদায়ের পরও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করতে থাকেন।
মুয়াজা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
قلت لعائشة رضي الله عنها: أكان النبي - صلى الله عليه وسلم - يصلي الضحى؟ قالت: «نعم أربع ركعات ويزيد ما شاء الله عز وجل».
“আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত পড়তেন? তিনি উত্তরে বলেন: হাঁ, তিনি চার রাকাত পড়তেন অনেক সময় মা-শাআল্লাহ বেশীও পড়তেন। [মুসলিম, হাদিস: ৭১৯ ]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সালাত সম্পর্কে অসিয়তও করে গেছেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
«أوصاني خليلي - صلى الله عليه وسلم - بصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى، وأن أوتر قبل أن أرقد».
আমার বন্ধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুই রাকাত চাশতের সালাত পড়া ও ঘুমানোর পূর্বেই বিতর সালাত আদায় করার অসিয়ত করেছেন। [বুখারী, হাদিস: ১৯৮১; মুসলিম, হাদিস: ৭২১ ]
এ ঘরে তো ঈমানেরই আবাদ। ইবাদাত ও যিকিরে ভরপুর। আর আমাদের ঘরও যেন সেরকম হয় সে জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অসিয়ত করেছেন। তিনি বলেন:
«اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبورًا».
তোমাদের ঘরেও তোমরা কিছু সালাত আদায় করো, ঘরকে সালাত না পড়ে কবরে পরিণত করো না। [বুখারী, হাদিস: ৪৩২ ]
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত সুন্নত সালাতগুলি এবং ঐ নফল সালাত যা নির্ধারিত কারণে [যেমন, জানাযা, চন্দ্র গ্রহণ ইত্যাদি] পড়া হয় তা ঘরেই পড়তেন বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত। তিনি মাগরিবের সুন্নাত মসজিদে পড়েছেন এমন কোন প্রমাণ নেই। ঘরে সুন্নাত ও নফল সালাত আদায় করার অনেক উপকার রয়েছে, তন্মধ্যে:
-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুকরণ।
-মহিলা ও শিশুদেরকে নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া।
-নামাযে কেরাত ও যিকির করার মাধ্যমে শয়তানকে ঘর থেকে বিতাড়িত করা।
- সালাত মসজিদে আদায় করার তুলনায় অধিক ইখলাস পূর্ণ হওয়া।
- লোক দেখানো তথা রিয়া বা ছোট শিরক থেকে বাঁচা।