88
Mecca
The Surah takes its name from the alphabetic letter Suad with which it begins.
As will be explained below, according to some traditions this Surah was sent down in the period when the Holy Prophet had started calling the people openly to Islam in Makkah, and this had caused great alarm among the chiefs of the Quraish. If this be true, its period of revelation would be about the 4th year of the Prophethood. According to some other traditions, it was sent down after Hadrat Umar's embracing Islam, and this happened, as is well known, after the migration to Habash. Another chain of the traditions shows that the event which occasioned the revelation of this Surah took place during the last illness of Abu Talib. If this be correct, the period of its revelation would be the 10th or 11th year of the Prophethood
38:30
وَوَهَبْنَا لِدَاوُۥدَ سُلَيْمَـٰنَ ۚ نِعْمَ ٱلْعَبْدُ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ ٣٠
And to David We gave Solomon. An excellent servant, indeed he was one repeatedly turning back [to Allāh].
— Saheeh International
আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে ছিল উত্তম বান্দা এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:31
إِذْ عُرِضَ عَلَيْهِ بِٱلْعَشِىِّ ٱلصَّـٰفِنَـٰتُ ٱلْجِيَادُ ٣١
[Mention] when there were exhibited before him in the afternoon the poised [standing] racehorses.
— Saheeh International
যখন অপরাহ্নে তার সামনে ধাবমান উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হল –
— Sheikh Mujibur Rahman
38:32
فَقَالَ إِنِّىٓ أَحْبَبْتُ حُبَّ ٱلْخَيْرِ عَن ذِكْرِ رَبِّى حَتَّىٰ تَوَارَتْ بِٱلْحِجَابِ ٣٢
And he said, "Indeed, I gave preference to the love of good [things] over the remembrance of my Lord until it [i.e., the sun] disappeared into the curtain [of darkness]."
— Saheeh International
তখন সে বললঃ আমিতো আমার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয়ে ঐশ্বর্য প্রীতিতে মগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে।
— Sheikh Mujibur Rahman
38:33
رُدُّوهَا عَلَىَّ ۖ فَطَفِقَ مَسْحًۢا بِٱلسُّوقِ وَٱلْأَعْنَاقِ ٣٣
[He said], "Return them to me," and set about striking[1] [their] legs and necks.
— Saheeh International
[1]- With his sword as expiation. Some commentaries have also suggested the meaning of "stroking" with the hand.
ওগুলোকে পুনরায় আমার সামনে নিয়ে এসো। অতঃপর সে ওগুলোর পা ও গলদেশ ছেদন করতে লাগল।
— Sheikh Mujibur Rahman
Allah tells us that he gave Sulayman to Dawud as a Prophet, as He says elsewhere:
وَوَرِثَ سُلَيْمَـنُ دَاوُودَ
(And Sulayman inherited Dawud) (27:1). meaning, he inherited prophethood from him. Dawud had other sons besides Sulayman, for he had one hundred free wives.
نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ
(How excellent a servant! Verily, he was ever oft-returning in repentance (to Us)!) This is praise for Sulayman, because he was very much obedient, worshipping Allah much and always turning to Allah in repentance.
إِذْ عُرِضَ عَلَيْهِ بِالْعَشِىِّ الصَّـفِنَـتُ الْجِيَادُ
(When there were displayed before him, in the afternoon, well trained horses of the highest breed.) means, these well trained horses were shown to Sulayman, peace be upon him, in his capacity as king and ruler. Mujahid said, "They were the kind of horses which stand on three legs and raise the fourth, and they were swift horses." This was also the view of several others among the Salaf. Abu Dawud recorded that `A'ishah, may Allah be pleased with her, said, "The Messenger of Allah ﷺ came back from the campaign of Tabuk or Khaybar, and there was a curtain covering her room. The wind came and lifted the curtain, revealing some toys belonging to `A'ishah, may Allah be pleased with her. The Prophet said:
«مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟»
(What is this, O `A'ishah) She, may Allah be pleased with her, said, "My toys." Among them he saw a horse with two wings made of cloth. He said:
«مَا هَذَا الَّذِي أَرَى وَسَطَهُنَّ؟»
(What is this that I see in the midst of them) She, may Allah be pleased with her, said, "A horse." The Messenger of Allah ﷺ said,
«مَا هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ؟»
(And what is this on it) She, may Allah be pleased with her, said, "Wings." The Messenger of Allah ﷺ said,
«فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ؟»
(A horse with two wings) She, may Allah be pleased with her, said, "Did you not hear that Sulayman, peace be upon him, had a horse that had wings" She, may Allah be pleased with her, said, "The Messenger of Allah ﷺ smiled so broadly that I could see his molars."
فَقَالَ إِنِّى أَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَيْرِ عَن ذِكْرِ رَبِى حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ
(He said: "I did love the good (i.e., horses) instead of remembering my Lord" till the time was over, and (the sun) had hidden in the veil (of night)) More than one of the Salaf and scholars of Tafsir mentioned that he was so busy looking at the horses that he missed the time of `Asr prayer. He did not miss it deliberately, but because of forgetfulness, as happened to the Prophet on the day of Khandaq, when he was too busy to pray `Asr and he prayed it after the sun had set. This was recorded in the Two Sahihs with more than one chain of narration, including the report from Jabir, may Allah be pleased with him, who said, "On the day of Khandaq, `Umar, may Allah be pleased with him, came after the sun had set and started cursing the disbelievers of the Quraysh. He said, `O Messenger of Allah, I could not pray `Asr until the sun had almost set.' The Messenger of Allah ﷺ said,
«وَاللهِ مَا صَلَّيْتُهَا»
(By Allah, I did not pray it either.)" He (Jabir) said, "So we got up and went to Buthan. Allah's Prophet performed ablution for the prayer and we too performed ablution. He prayed `Asr after the sun had set, then he prayed Maghrib after that."
رُدُّوهَا عَلَىَّ فَطَفِقَ مَسْحاً بِالسُّوقِ وَالاٌّعْنَاقِ
(Then he said: "Bring them (horses) back to me." Then he began to pass his hand over their legs and their necks.) Al-Hasan Al-Basri said, "He said, `No, by Allah, you will not keep me from worshipping my Lord again,' then he ordered that they should be slaughtered." This was also the view of Qatadah. As-Suddi said, "Their necks and hamstrings were struck with swords." `Ali bin Abi Talhah reported that Ibn `Abbas, may Allah be pleased with him, said, "He began patting the horses' heads and legs out of love for them." This is the view that was favored by Ibn Jarir. He said, "Because he would not punish an animal by cutting its hamstrings or destroy his own wealth for no other reason than that he had been distracted from his prayer by looking at it, and it was not the animals' fault. " This view which Ibn Jarir thought more correct is subject to further review, because such action may have been permissible according to their law, especially since he got angry for the sake of Allah for being distracted by these horses until the time for prayer had lapsed. Then, since he dispensed with them for the sake of Allah, Allah compensated him with something better, the wind which blew gently by his order wherever he willed. Its morning lasted a month's (journey), and its afternoon lasted a month's (journey). This was faster and better than horses. Imam Ahmad recorded that Abu Qatadah and Abu Ad-Dahma', who traveled a lot to the Ka`bah, said, "We met a man from among the bedouins who said to us: `The Messenger of Allah ﷺ took my hand and started teaching me some of that which Allah had taught him. He said,
«إِنَّكَ لَا تَدَعُ شَيْئًا اتِّقَاءَ اللهِ تَعَالَى إِلَّا أَعْطَاكَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرًا مِنْه»
(You do not give up anything for the sake of Allah, but Allah will give you something better than it.)"'
আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ (আঃ)-কে যে একটি বড় নিয়ামত দান করেছিলেন এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে তাঁর নবুওয়াতের উত্তরাধিকারী করেছিলেন। এজন্যেই হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর উল্লেখ করা হয়েছে। নচেৎ হযরত দাউদ (আঃ)-এর তো। আরো বহু সন্তান ছিল। দাসীরা ছাড়াও তার একশজন স্ত্রী ছিল। সুতরাং হযরত সুলাইমান (আঃ) হযরত দাউদ (আঃ)-এর নবুওয়াতের ওয়ারিশ হয়েছিলেন। যেমন মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সুলাইমান (আঃ) দাউদ (আঃ)-এর ওয়ারিশ হলো।” (২৭:১৬) অর্থাৎ নবুওয়াতের ওয়ারিশ হলেন। হযরত দাউদ (আঃ)-এর পর হযরত সুলাইমান (আঃ) নবুওয়াত লাভ করেন।মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সে ছিল উত্তম বান্দা এবং অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। অর্থাৎ তিনি বড়ই ইবাদতগুয়ার ছিলেন এবং খুব বেশী আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন।হযরত মাকহুল (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ (আঃ)-কে দান করলেন সুলাইমান (আঃ)-কে তখন হযরত দাউদ (আঃ) হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে প্রশ্ন করলেনঃ “হে আমার প্রিয় বৎস! আচ্ছা বল তোঃ সবচেয়ে উত্তম জিনিস কি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “আল্লাহর পক্ষ হতে আগত চিত্ত-প্রশান্তি এবং ঈমান।” আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ “সবচেয়ে মন্দ জিনিস কি?”
উত্তরে তিনি বললেনঃ “ঈমানের পর কুফরী।” পুনরার প্রশ্ন করলেনঃ “সবচেয়ে মিষ্টি জিনিস কি?” তিনি উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহর রহমত বা করুণা।" আবার প্রশ্ন করলেনঃ “সবচেয়ে শীতল জিনিস কি?” তিনি জবাবে বললেনঃ “আল্লাহ তা'আলার মানুষকে ক্ষমা করে দেয়া এবং মানুষের একে অপরকে মাফ করা।” তখন হযরত দাউদ (আঃ) হযরত সুলাইমান (আঃ)-কে বললেনঃ “তাহলে তুমি নবী।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর রাজত্বের আমলে তাঁর সামনে তার ঘোড়াগুলো হাযির করা হয় যেগুলো ছিল খুবই দ্রুতগামী এবং ওগুলো তিন পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতো। একটি উক্তি এও আছে যে, এগুলো ছিল উড়ন্ত ঘোড়া, যেগুলোর সংখ্যা ছিল বিশ। ইবরাহীম তাইমী (রঃ) ঘোড়াগুলোর সংখ্যা বিশ হাজার বলেছেন। এসব ব্যাপারে সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।সুনানে আবি দাউদে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাবুক অথবা খায়বারের যুদ্ধ হতে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বাড়ীতে প্রবেশ করেছেন এমন সময় প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। ফলে ঘরের এক কোণের পর্দা সরে যায়।
ঐ জায়গায় হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর খেলনার পুতুলগুলো রাখা ছিল। ওগুলোর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দৃষ্টি পড়লে তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ওগুলো কি?” তিনি জবাবে বললেনঃ “ওগুলো আমার পুতুল।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) দেখতে পান যে, মধ্যভাগে একটি ঘোড়ার মত কি যেন বানানো রয়েছে যাতে কাপড়ের তৈরী দুটি ডানাও লাগানো আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “এটা কি?" উত্তরে হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ “এটা ঘোড়া। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ “কাপড়ের তৈরী ওর উপরে দুই দিকে ও দুটো কি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “এ দুটো ওর ডানা।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “ঘোড়াও ভাল এবং ডানা দুটিও উত্তম।” তখন হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ “আপনি কি শুনেননি যে, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর ডানা বিশিষ্ট ঘোড়া ছিল?" একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) হেসে উঠলেন। এমনকি তাঁর শেষ দাঁতটিও দেখা গেল।হযরত সুলাইমান (আঃ) ঘোড়াগুলোর দেখা শোনায় এমন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, তাঁর আসরের নামাযের খেয়ালই থাকলো না। নামাযের কথা তিনি সম্পূর্ণরূপে বিস্মরণ হয়ে গেলেন। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) খন্দকের যুদ্ধের সময় একদিন যুদ্ধে মগ্ন থাকার কারণে আসরের নামায পড়তে পারেননি। মাগরিবের নামাযের পর ঐ নামায আদায় করেন।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, সূর্য ডুবে যাওয়ার পর হযরত উমার (রাঃ) কুরায়েশ কাফিরদেরকে মন্দ বলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো আসরের নামায পড়তে পারিনি?" রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বললেনঃ “এখন পর্যন্ত আমিও নামায আদায় করতে সক্ষম হইনি।” অতঃপর তারা বাতহান নামক স্থানে গিয়ে অযু করলেন এবং সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আসরের নামায আদায় করলেন এবং পরে মাগরিবের নামায পড়লেন।
এটাও হতে পারে যে, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর দ্বীনে যুদ্ধ-ব্যস্ততার কারণে নামাযকে বিলম্বে আদায় করা জায়েয ছিল। তাঁর ঘোড়াগুলো হয়তো যুদ্ধের ঘোড়া ছিল যেগুলোকে একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছিল। যেমন কোন কোন আলেম একথাও বলেছেন যে, সালাতে খাওফ (ভয়ের সময়ের নামায) জারী হওযার পূর্বে এই অবস্থাই ছিল। যখন তরবারী চৰ্চ করে ওঠে এবং শত্রু সৈন্য এসে ভিড়ে যায়, আর নামাযের জন্যে রুকু-সিজদা করার সুযোগই হয় না তখন এই হুকুম রয়েছে। যেমন সাহাবীগণ (রাঃ) তাসতির’ বিজয়ের সময় এরূপ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের প্রথম উক্তিটিই সঠিক। কেননা, এরপরেই হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর এই ঘোড়াগুলোকে পুনরায় তলব করা ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। তিনি ওগুলোকে কেটে ফেলার নির্দেশ দেন এবং বলেনঃ “এগুলো তো আমাকে আমার প্রতিপালকের ইবাদত হতে উদাসীন করে ফেলেছে। সুতরাং এগুলো রাখা চলবে না।" অতঃপর ঐ ঘোড়াগুলোর পা ও গলদেশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, হযরত সুলাইমান (আঃ) শুধু ঘোড়াগুলোর কপালের লোমগুলো ইত্যাদির উপর হাত ফিরিয়েছিলেন। ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) এই উক্তিটি গ্রহণ করেছেন যে, বিনা কারণে জন্তুকে কষ্ট দেয়া অবৈধ। ঐ জন্তুগুলোর কোনই দোষ ছিল না যে, তিনি ওগুলো কেটে ফেলবেন।
কিন্তু আমি বলি যে, হয়তো তাদের শরীয়তে এ কাজ বৈধ ছিল, বিশেষ করে ঐ সময়, যখন ঐগুলো আল্লাহর স্মরণে বাধা সৃষ্টি করলো এবং নামাযের ওয়াক্ত সম্পূর্ণরূপে চলেই গেল। তাহলে তার ঐ ক্রোধ আল্লাহর জন্যেই ছিল। আর এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ওগুলোর চেয়ে দ্রুতগামী ও হালকা জিনিস দান করেছিলেন। অর্থাৎ বাতাসকে তিনি তার অনুগত করে দিয়েছিলেন।হ্যরত কাতাদা (রঃ) ও হযরত আবুদ দাহমা (রঃ) প্রায়ই হজ্ব করতেন। তারা বলেন, একবার এক গ্রামে একজন বেদুইনের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। সে বলে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার হাত ধরে আমাকে বহু কিছু দ্বীনী শিক্ষা দিয়েছিলেন। তাতে এও ছিলঃ “তুমি আল্লাহকে ভয় করে যে জিনিস ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তদপেক্ষা উত্তম জিনিস দান করবেন।" (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
অসহায় দুর্বল এ খাদেমকেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপযুক্ত স্থানে মূল্যায়ন করেন, তাকে তার দ্বীনদারী ও পরহেযগারীর ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করেন, তার কর্ম ও দুর্বলতার ভিত্তিতে নয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদেম ও মজুরদের ব্যাপারে বলেন:
«هم إخوانكم، جعلهم الله تحت أيديكم، فأطعموهم مما تأكلون، وألبسوهم مما تلبسون، ولا تكلفوهم ما يغلبهم فإن كلفتموهم فأعينوهم».
তারা তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের কর্তৃত্বাধীন করে দিয়েছেন, তোমরা যা খাবে তা তাদেরকেও খাওয়াবে, তোমরা যা পরিধান করবে তা তাদেরকেও পরিধান করাবে, তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দিবে না, আর যদি অনুরূপ দায়িত্ব দাও, তাতে তোমরাও সহযোগিতা করবে। [বুখারি, হাদিস: ৬০৫০; মুসলিম, হাদিস: ১৬৬১ ]
প্রিয় পাঠক! দেখুন, এক খাদেম তার মুনিব সম্পর্কে আশ্চর্য জবান বন্দী দিচ্ছেন, এক গ্রহণ যোগ্য সাক্ষ্য প্রদান ও হৃদয় গ্রাহী প্রশংসা করছেন!!
আপনি কি কখনো কোন খাদেমকে তার মুনিবের ব্যাপারে এমন প্রশংসা করতে দেখেছেন? যেমন প্রশংসা করেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম তাঁর ব্যাপারে?
আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
«خدمت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عشر سنين فما قال لي أف قط، وما قال لي لشيء صنعته [لم صنعته؟] ولا لشيء تركته لم تركته؟».
আমি দশ বছর যাবত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করেছি, আমার কাজ কর্মে [বিরক্ত হয়ে ধমকের সূরে] তিনি কোন দিন উফ শব্দটি বলেননি, আর আমি কোন কাজ করলে তিনি কখনো বলেননি যে, তুমি এ কাজ কেন করেছ? আর কোন কাজ না করলে তিনি কখনো বলেননি যে, তুমি এ কাজ কেন করোনি। [মুসলিম, হাদিস: ২৩০৯ ]
পুরা দশটি বছর.. কয়েক দিন বা কয়েক মাস নয়, অনেক সময় যেখানে দুঃখ বেদনা, সুখ-শান্তি, চিন্তা, রাগ, মানসিক পরিবর্তন ও অস্থিরতা থেকে শুরু করে অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে তার মাঝে। যাতে সাচ্ছন্দ ও অসচ্ছলতার অনেক দিনই অতিবাহিত হয়েছে!! এত ঘটনা প্রবাহের মাঝেও তিনি তাকে কোন দিন ধমক দিয়ে কথা বললেন না, কোন প্রকার নির্দেশও তিনি দিলেন না তাকে। বরং তার স্বীয় ব্যক্তিত্বের উপর ছেড়ে দিয়েছেন তার সমগ্র কাজ কর্ম, বরং তাকে তার প্রতিদান দিতেন ও তার মনোভাবকে খুশী রাখতেন, তার ও তার পরিবারের প্রয়োজন ও চাহিদা পূর্ণ করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।!!
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমার মা বলেন: হে আল্লাহ রাসূল! আপনার এ খাদেমের জন্য দোয়া করুন। তিনি বলেন:
«اللهم أكثر ماله وولده، وبارك له فيما أعطيته».
হে আল্লাহ তা‘আলা আপনি তাকে প্রচুর সম্পদ ও অনেক সন্তানাদি দান করুন এবং তাকে যা দিয়েছেন তাতে প্রাচুর্যতা দান করুন। [বুখারী, হাদিস: ৬৩৪ ]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বড় সাহসী বাহাদুর হওয়ার পরেও তিনি কোন দিন কাউকে অপমান করেননি ইসলামের হক ব্যতীত কাউকে মারেননি এবং তার কর্তৃত্বাধীন স্ত্রী বা চাকর কোন অপরাধ করলেও তার প্রতিশোধ নেননি!!
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
ما ضرب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بيده شيئًا قط إلا أن يجاهد في سبيل الله ولا ضرب خادمًا ولا امرأة».
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ব্যতীত তাঁর হাত দিয়ে কাউকে মারেননি এমনকি তার স্ত্রী ও খাদেমকেও না। [মুসলিম, হাদিস: ২৩২৮ ]
এই তো মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সৃষ্টির সর্বোত্তম ও সমস্ত মানুষের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির ব্যাপারে পূনরায় সাক্ষ্য প্রদান করছেন, এমনকি তাঁর পবিত্র আদর্শ, সূনাম ও সূখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল দিক-দিগন্তর, এমনকি কুরাইশ বংশের কাফেররা পর্যন্ত তার সাক্ষ্য দিয়েছে।
vনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহনশীলতা ও দয়ার প্রতি আহ্বান করতেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন:
«إن الله رفيق يحب الرفق في الأمر كله».
আল্লাহ তা‘আলা সহনশীল এবং প্রত্যেক ব্যাপারে সহনশীলতাকে ভালবাসেন। [বুখারী, হাদিস: ৬৯২৭; মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৩ ]